
দিনাজপুর প্রতিনিধি
তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী রামসাগরে প্রথমবারের মতো ২.৫ কিলোমিটার মিনি ম্যারাথন এবং ৩ কিলোমিটার সঁাতার এবং ৫ কিলোমিটার দৌড় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দিনাজপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন বয়সের শতাধিক ছেলে অংশগ্রহণ করেন।
সাতারে প্রথম হয় রাঙামাটি জেলার জয়তু দাস। তিনি সময় নিয়েছেন ১ ঘন্টা ১২ মিনিট ১৩ সেকেন্ড, দ্বিতীয় হয় ময়মনসিংহ জেলার মোঃ রেজওয়ানুর রহমান। তিনি সময় নিয়েছেন ১ ঘন্টা ১৪ মিনিট ৩১ সেকেন্ড এবং তৃতীয় হয় চট্টগ্রাম জেলার আব্দুল্লাহ আল সাবিদ। তিনি সময় নিয়েছেন ১ ঘন্টা ১৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ড। এছাড়া ২.৫ কি. মি মিনি ম্যারাথনে প্রথম হয় দিনাজপুরের তানজিমুল ইসলাম। তিনি সময় নিয়েছেন ১১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড, দ্বিতীয় হয় শামীম রেজা। তিনি সময় নিয়েছেন ১২ মিনিট ০৯ সেকেন্ড) এবং তৃতীয় হয় তৌফিক হাসান। তিনি সময় নিয়েছেন ১২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে এবং দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সহযোগিতায় দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী রামসাগরে এই সঁাতার এবং ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে সঁাতার এবং মিনি ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। এরপর তিনি মিনি ম্যরাথনে অংশ নেন।
দুপুর সাড়ে ১২ টায় পুরস্কার বিতরণীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় তিনি বলেন, দিনাজপুর জেলা চাল এবং লিচুর জন্য বিখ্যাত। এজন্য আমরা চাল এবং লিচু এই ব্রান্ডিংকে আরো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এই আয়োজন করেছি। ইনশাল্লাহ প্রতি মাসে এমন আয়োজন করা হবে। এছাড়া এই ঐতিহাসিক রামসাগরে বর্তমানে শুধু জায়গা পড়ে আছে সৌন্দর্য আর নাই। তাই এই রামসাগরকে পর্যটন বান্ধব করতে আমরা কাজ করবো। খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভালো মানের খেলোয়াড় হতে হলে কমপক্ষে ১৫ বছর চর্চা করতে হবে। তাই নিয়মিত চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। যেকোন খেলার সামগ্রী প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনকে জানালে আমরা তা নিয়ে হাজির হবো।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আবু বকর ছিদ্দীক এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছিলেন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি দিনাজপুর শহর শাখার মামীর সিরাজুস ছালেহিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে চেম্বারের পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারি মোহন, শামীম কবীর অপু প্রমুখ। ডুয়াথলন ও মিনি ম্যারাথন পরিচালনা করেন মো. লিয়াকত আলী, জাহাঙ্গীর, মো. নজরুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান লিমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে নগদ অর্থ এবং অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে মেডেল এবং জার্সি প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।
সাঁতারে প্রথম জয়তু দাস জানান, তার বাড়ী রাঙামাটি জেলার নানিয়াচড় উপজেলায়। তিনি এই প্রথম দিনাজপুরে এসেছেন। এর আগে মেরিনড্রাইভ, বাংলা চ্যানেল, শুভলং চ্যানেল এবং মেঘনা চ্যানেলে সুইমিং করেন।
দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার মোঃ রেজওয়ানুর রহমান জানান, খেলার ইভেন্টের নামে আমার একটি ভ্রমন হয়ে যায়। আমি প্রথম গাজীপুরে ৪২ কিলোমিটারের একটি ম্যারাথনে অংশ নেই। এরপরে আরো ঢাকা সেনাবাহিনীর আয়োজনেও অংশ নেই এবং বাংলা চ্যানেলেও সুইমিং করি।
তৃতীয় স্থান অধিকারী চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল সাবিদ জানান, তিনি ২০২২ সালে বাংলা চ্যানেল, ২০২৪ সালে মেঘনা ক্রসিং এবং ২০২৫ সালে কুতুবদিয়া চ্যানেল ক্রসিং করেছি। পাশাপাশি রানিংয়েও আছি।
