
মোঃ রফিকুল ইসলাম লাবলু,নিজেস্ব প্রতিবেদক:- রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গতকাল গভীর রাতে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—অন্নদানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন ভূঁইয়া, পীরগাছা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম এবং যুবলীগ নেতা সোহেল ধনী। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সম্প্রতি উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, গোপন বৈঠক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের আগে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও স্থানের ওপর কয়েকদিন ধরে নজরদারি চলছিল বলে জানা গেছে। অভিযান চলাকালে যৌথবাহিনীর সদস্যরা একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযানের সময় কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আটকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো না হলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা এবং সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যমও যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের কয়েকজন নেতাকর্মী এটিকে রাজনৈতিক হয়রানি বলে দাবি করলেও, সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তদন্তের স্বার্থে অভিযানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনার পর থেকে পীরগাছার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যৌথবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
