
এম. আর. সোহেল, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আপন ননদের স্বামী বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পৌর শহরের কালিপুর মধ্যপাড়া পশ্চিম বন্দ এলাকায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার ঐদিনই ভৈরব থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে ভিকটিম ১৯ জুন বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এ মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত পৌর শহরের কালিপুর মধ্যপাড়া পশ্চিম বন্দ এলাকার মৃত আতর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৩৫)। এ ঘটনায় পুলিশ বাবুল মিয়াকে রোববার (২০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কালিপুরের তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করলেও অর্থের বিনিময়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব বিন ইসলাম আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পলাতক আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ কারণে আজ সোমবার দুপুর ১২ টার সময় ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার অনেক নারী পুরুষ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে থানার গেইটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, আমার ঘর এর পাশে আসামি বাবুল এর একটি পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে। সে প্রায় সময় সেখানে বিভিন্ন মানুষজন নিয়ে আড্ডা ও নেশা করতে আসতো। এছাড়া আসামি আমার আপন ননদের স্বামী হওয়ায় সেই সুবাদে আমাদের ঘরেও মাঝেমধ্যে আসা যাওয়া করতো। গত ১৭ জুন সকালে আমার বসত ঘরে আমি কাজ করছিলাম। তখন আমার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে স্কুলে ছিল এবং আমার স্বামী ভৈরব থানার একটি মামলায় জেল হাজতে ছিল। এই সুবাদে আসামি আমাকে একা পেয়ে আমার বসত ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। পরে আমি কোনো রকম আমার শাশুড়িকে ফোন করলে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে এসে আমাকে রক্ষা করে। এসময় আসামি বাবুল দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর শাশুড়ি নাজমা বেগম বলেন, আসামি বাবুল আমার মেয়ের জামাই। আমার ছেলের ঘরের সাথে তার একটি ঘর রয়েছে। সেখানে সে প্রতিদিন এসে মাদক বিক্রি করে এবং নিজেও খাই। এমনকি সে অনেক সময় রাতে সেখানে মেয়েও নিয়ে আসে। সে আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে আমার ছেলের বউকে নির্যাতনের করার জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছিল। আমি আমার ছেলের বউ এর সাথে থাকছি বলে সে সুযোগটা নিতে পরছিল না। একদিন আমার ছোট ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হলে আমি আমার বাড়িতে চলে যায়। ঐ দিন আমার নাতিও স্কুলে ছিল। এই সুযোগে বাবুল আমার ছেলের বউকে ঘরে একা পেয়ে তাকে পিছন থেকে জাপ্টে ধরে তার কাপড় চাপড় ছিড়ে ফেলে এবং তারা শরীরে বিভিন্ন জায়গায় শারীরিক আঘাত করে। এই অবস্থা আমার ছেলের বউ আমাকে ফোন দিলে আমি স্থানীয় আরো লোকজন নিয়ে ঐ স্থানে উপস্থিত হয়। তখন গিয়ে দেখি আমার ছেলের বউ অনেক কান্নাকাটি করছে আর বাবুল আলাদা আরেকটা ঘর থেকে আরেকজন লোক নিয়ে বের হয়ে চলে যাচ্ছে। তখন আমি বাবুলকে জাপ্টিয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করতে চাইলে সে দৌঁড়িয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি এলাকার আরো অনেকেই দেখেছে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচাই চাই।
ভুক্তভোগীর স্বামী সুমন মিয়া জানান, আমার স্ত্রীকে বাবুল ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে এই বিষয়ে আমার স্ত্রী নিজে বাদী হয়ে
কোর্টে একটি নারী নির্যাতন মামলা করে। পরে মামলাটি থানায় এফআইআর হয়।
রোববার (২০ জুলাই) রাতে আমরা যখন জানতে পারি আসামি বাড়িতে আছে তখন আমি পুলিশ কে বিষয়টি জানালে এসআই রাকিবসহ ৬ জন পুলিশ এবং আমি নিজে আসামীর বাড়িতে যায়। আসামিকে তখন বাড়িতে পেয়ে পুলিশ আমার সামনে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হাতে হ্যান্ডকাফ লাগায়। তখন এসআই রাকিব আমাকে বলে আপনি এইখান থেকে চলে যান। পরে আমি থানায় চলে আসি। থানায় এসে প্রায় ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করি কিন্তু পুলিশ আসামী থানায় নিয়ে আসে না। পরবর্তীতে আমি এসআই রাকিব এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আসামি নাকি হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে গেছে। পুলিশ যে কথাটি বলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা তারা আসামি ছেড়ে দিয়েছে। আমি এই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের কাছে সঠিক বিচার চাই এবং বাবুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এই বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব বিন ইসলাম বলেন, আমরা আসামি ধরে হ্যান্ডকাফ লাগিয়েছিলাম। কিন্তু আসামি বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করছি।
ভৈরব অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফোয়াদ রুহানি বলেন, কালিপুর মধ্যপাড়া এলাকার স্বপ্না বেগম নামে এক নারীকে শ্লীলতাহানি করেছে মর্মে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারই ননদের স্বামী বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক গত ১৮ তারিখে আমি মামলাটি রুজু করে এস আই রাকিবকে তদন্তের নির্দেশ দেই। গতকাল রাতে আসামিকে একটি গ্যারেজে গিয়ে তাকে আটক করা হয়। রাকিবের ভাষ্যমতে আসামিকে আটকের পর সে ওয়াশ রুমে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এস আইয়ের দায়িত্বে অবহেলা থাকায় এ মামলা থেকে সরিয়ে নিয়ে এসআই সাদিরুজ্জামান কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাদিরুজ্জামান এ মামলার বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করবে। আর টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যাবস্থা নিবে।
