
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ওই বিএনপি কর্মীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগীরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত বিএনপি কর্মীর নাম ছামিউল ইসলাম। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে। এ ঘটনায় আহত বিএনপি কর্মীর ভাই বাদি হয়ে তিন জনকে আসামি করে থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগ মামলা দায়ের করেন।
পরিবারিক ও মামলা সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমাজমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা মতিন ডাক্তারের সাথে বিরোধ চলে আসছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে শনিবার সকালে ছামিউল ইসলাম ও তার সহোদর হবিবর রহমান বাড়ির পাশের ধানক্ষেত দেখতে যান। এসময় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মতিন ডাক্তারের নির্দেশে তার দুই ছেলে মানিক মিয়া ও জাকারিয়া তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। এতে তাদের হাতে থাকা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিএনপি কর্মী ছামিউলের মাথায় ও শরীরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের দুইজনকে উদ্ধার করে। পরে ছামিউল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, বিএনপির কর্মী ছামিউল ইসলামের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এসময় বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা অংশ নেন। মানববন্ধনে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উজ্জ্বল সরকার বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি কর্মী ছামিউল ইসলামের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আহত ছামিউল ইসলামের ভাগ্নে রয়েল সরকার বিচার দাবি জানিয়ে বলেন- দীর্ঘদিন ধরে তারা আমার মামার উপর হামলার নকশা তৈরি করছেন। শনিবার বাড়ির পাশে জমিতে যাওয়ার পথে তারা নির্জন স্থানে হত্যার জন্য পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শী জয়দুল ইসলাম জানান- ঘটনার সময় আমি জমিতে পানি দিচ্ছিলাম। এসময় চিৎকার শুনে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি ছামিউলকে ধানক্ষেতে ফেলে এলোপাতাড়ি পেটানো হচ্ছে। আমি আরও লোকজনকে ডাক দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সবাই মিলে তাদের দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মতিন ডাক্তার দাবি করে- ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। ঘটনার পর জানতে পারি আমার ছেলেদের সাথে ঝামেলা হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এমন ঘটনায় অনুতপ্ত বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ জানান- ঘটনার পর রাতেই হত্যা চেষ্টার অভিযোগ মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
