জামালপুর প্রতিনিধি: নাজমুল হাসান :- জামালপুরে ডিলার ও একটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেশি দাম নিয়ে পরিমাপে কম জ্বালানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ পেয়ে গত সোমবার দুপুরে শহরের পিটিআই সড়কে জ্বালানি তেলের ডিলার মেসার্স জুঁই এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, বাইক চালকদের দীর্ঘ সারি। সরকার নির্ধারিত মূল্য ৫৪০ টাকার স্থলে ৫৭০ টাকা নিয়ে প্রত্যেক গ্রাহকের কনটেইনারে করে দেওয়া হচ্ছে চার লিটার পেট্রোল। কিন্তু এই ডিলার পয়েন্টের সামনেই পরিমাপের পর পাওয়া গেল সোয়া তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার। এতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম পড়ছে ১৬৩ থেকে ১৬৫ টাকা। জামালপুর শহরের বাইক চালক রাজীব হাসান জানান, তাঁর কাছ থেকে ৫৭০ টাকা নিয়ে দেওয়া হয়েছে তিন লিটার ৪০০ গ্রাম পেট্রোল। ভিড়ের কারণে সবার সামনেই তেল কম দেওয়া হলেও প্রতিবাদ করার পরিস্থিতি নেই।
এই ডিলার পয়েন্টের সামনেই দেখা যায়, অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দালাল চক্রের সদস্যরা সিরিয়াল ছাড়াই ভেতর থেকে কনটেইনারে করে তেল এনে দিচ্ছে। মধ্যরাত থেকে লাইনে দাঁড়ানো মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর এলাকার বাইক চালক কবির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। অথচ দালালরা সিরিয়ালের তোয়াক্কা না করে ভেতরে ঢুকে কনটেইনার ভরে ভরে তেল নিয়ে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৯টায় তেল বিক্রি শুরু করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ সময়ই বেলা ১১টা পার হয়ে যায়। আবার দুপুরের খাবারের বিরতির অজুহাতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বন্ধ রাখে। আবার লাইনে শত শত গ্রাহক থাকতেই সন্ধ্যা ৬টার আগেই তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও নিয়মের মধ্যে আসছেন না তিনি। একই সড়কে জাবেদ ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তেল কম দেওয়াসহ দায়িত্বরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভালো বকশিশ না দিলে তেল কম পাওয়াসহ দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন অনেকেই।
ধনবাড়ী এলাকার মাইক্রোবাসের চালক আশরাফ উদ্দিনের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ লিটার পেট্রোল পেলেও কর্মচারীদের শর্ত না মানায় পরিমাপে কম দিয়ে তাড়াহুড়া করে লাইন থেকে বের করে দেওয়া হয়।
মেলান্দহের হাজরাবাগি এলাকার কৃষক আজাহার আলীর অভিযোগ, ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে এসে রাত জেগে বসে থেকে পাম্প কর্মচারীকে বকশিশ দিয়ে ডিজেল পান ২০ লিটার। পরে বাড়িতে গিয়ে মেপে পান ১৮ লিটার।
জ্বালানি তেল নিতে আসা আরও অনেকেরই অভিযোগ, জাবেদ ফিলিং স্টেশনের মালিক নিজেই জেলার বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর। তাঁর সংস্থার অধীনে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল চলাচল করে। পাম্পে তেল আসার সঙ্গে সঙ্গে নিজের সংস্থার প্রতিটি মোটরসাইকেলের ট্যাঙ্কি ভরার পর অন্য গ্রাহকদের তেল দেওয়া শুরু করেন তারা। এভাবে গ্রাহক ঠকানোর বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নিচ্ছে এবং পরিমাপে কম দিচ্ছে– তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। অভিযোগের ব্যাপারে জুই এন্টারপ্রাইজের মালিক জহুরুল হক বলেন, ভিড়ের কারণে তেলের পরিমাণ কম যেতেও পারে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আলী রেজা।
বিষয়টি নিয়ে জুঁই এন্টারপ্রাইজের সামনে থেকেই মোবাইল ফোনে কথা হয় জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলীর সঙ্গে। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানান। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দারকে বিষয়টি জানালে তারা ফিলিং স্টেশনের ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিন ও পরিমাপ যন্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ অসাধু তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রফিকুল ইসলাম লাভলু। উপদেষ্টা : প্রবাসী সুমন চন্দ্র। নির্বাহী সম্পাদক মোঃ তাজরুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক মোঃ জাহিদ হাসান মানছুর। ঢাকা অফিস : আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
যোগাযোগের ঠিকানা:-পীরগাছা, রংপুর। বার্তা কার্যালয়ঃ পাইকগাছা, খুলনা। মোবাইল: ০১৭১৭-৪৬৫০১০ ( সম্পাদক), ০১৭২৮-১০৩৫০৭ (নির্বাহী সম্পাদক
All rights reserved © 2025