
মিজানুর রহমান মিন্টু, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলেছেন শালবাহান হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। অভিযোগগুলোর মধ্যে তেঁতুলিয়ার ইউএনও তাকে পরিষদে না আসা এবং অফিস না করার মৌখিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এমন দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে শালবাহান হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম প্রথমে ফেসবুকে লাইভ করে ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা জানতে তার বাড়িতে গেল তিনি গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন। চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, যেদিন শহীদ ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পর ডেভিলহ্যান্ট-২ অভিযানের নামে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন বিনা ওয়ারেন্টে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। আমাকে নিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে। জেলহাজতে প্রেরণ করার পর ৯ দিনের মাথায় সেখানে আরো ২ টি মামলা দেওয়া হয়। যে মামলা আমাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আগে ৫ মাস আগে মামলা গুলো হয়েছিল। বাংলাবান্ধার যে ভাঙচুর মামলা আরেকটি ড্রেজারের মামলা সেটা রিসেন্ট হয়েছিলো আমাকে গ্রেপ্তারের ৫ থেকে ৬ দিন আগে। এবং পঞ্চগড়ে তৎকালীন এমপি নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রীর কেক কাটার ঘটনায় একটি মামলা হয় সেটাতেও আমাকে অর্ন্তরভুক্ত করেন। এই তিনটি মামলায় আমি এজাহার ভুক্ত আসামী না। আমাকে সন্দেহ মুলক ভাবে আমাকে এ মামলা গুলো দেওয়া হয়। আমি ৮৫ দিন পরে গত ৫ মার্চ তারিখে আমার জামিন হয়। তিনি আরো বলেন, গত ৮ই মার্চ তারিখে জেলা প্রশাসকের কাছে যোগদান পত্র দিয়ে অনুলিপি হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রদান করে আমি ইউনিয়র পরিষদে যোগদান করি। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু করি। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রমের সেবা প্রদান করে যাচ্ছি নিয়মিত। এই সেবা প্রদানের (একটি ডকুমেন্ট দেখিয়ে) ১১ তারিখে ভিজিডির চাল ডিও আমার নামে হয়। মাইকিং এর মাধ্যমে চাল বিতরণ শুরু করি। আজকে আবার টিসিবি পন্য বিতরণের সময় হয়েছে এখানে আবার আমার নাম বাদ দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার নামে এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার আদেশ হয়নি যে আমি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম করতে পারবো না। এখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আফরোজ শাহীন খসরু ব্যক্তিগত আক্রোশে এই কাজ গুলো করতেছে। আমার নামে ভিজিডির ডিও হয়েছে, কিন্তু ইউএনও ভিজিএফের ডিও আমার নামে না দিয়ে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার নামে করেছে যা আইনের পরিপন্থী । আমি ভিজিএফের কমিটিতেও রয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদে সকাল বিকাল বাজে খেলাটি চলতেছে। আমার নামে যদি কোন বহিষ্কার আদেশ আসে আমি মাথা পেতে নিয়ে আইনি লড়াই করবো। আইনের মাধ্যমে ফেরত পাইলে আমি ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে যাব। আমার ইউনিয়নবাসী আমারে সাদরে গ্রহণ করেছে। এ সময় চেয়ারম্যান ইউএনওর বিরুদ্ধে বেশকিছু ভিডিও ও ফোন রেকডিং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। সেখানে তিনি বর্তমান ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে কোন প্রকল্পের ঘুষ ছাড়া ইউএনও ফাইলে সই করেন না।অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আশরাফুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় পুলিশ ও আদালতের আদেশ ও প্রতিবেদনে মামলা আমলে নিয়েছে ও গৃহিত হয়েছে। আমি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় জেলা প্রশাসককে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের পদটি শূণ্য হয়েছে এবং স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ৩৪ (১) ধারা মতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অবহত করি। জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান পঞ্চগড় কোর্টের পিপির কাছে মতামত জানতে চাইলে পিপি উক্ত আইনের ধারা মতে জনস্বার্থে সাময়িক বরখাস্ত করার মতামত প্রদান করেন। তিনি আরো জানান, এরপর জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার জনিত কারনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন । আমাকে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের প্রেরিত পত্রের অনূকূলে মন্ত্রনালয়ের মতামত না আসা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকার জন্য। আমি চেয়ারম্যানকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছি এবং প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান আশরাফুল মৌখিক নির্দেশনা না মেনে অফিস করেছেন। এবং নির্দেশনা আমলে না নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকার আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আশরাফুল চেয়ারম্যানের উচিত ছিল যোগদান পত্রের স্বারক নাম্বার সহ এনডোস কপি আমার অফিসে প্রদান করলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারতাম। কিন্তু তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে কোন যোগাযোগ না করে শুধু যোগদান পত্র প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।অনান্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও বলেন প্রকল্পের নামে ঘুষ – কমিশণের অভিযোগ মিথ্যা । স্যোসাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে আমাকে হেয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যার কোনটার সাথে আমি সরাসরি সংযুক্ত নই। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ বলেন এ ব্যাপরে আমি এখনও অফিসিয়ালি কিছু জানি না তবে আমি উভয়পক্ষের মৌখিক বক্তব্য শুনেছি। আগামী রবিবার অফিস সময়ে উভয়পক্ষকে নির্দেশনা জানানো হবে।
