শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
মাগুরার শ্রীপুরে ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর গোপালী ইউএনওর দুর্নীতির সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের দ্বায়ে ১১ বছর বকেয়া বেতন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক শিক্ষক পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার।
তথ্যানুসন্ধানে ও মামলার বিবরনে জানা যায় ২০১১ সালে শ্রীপুর উপজেলার ইউএনও ছিলেন ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার খায়েরহাট গ্রামের মিনা মাসুদ উজ্জামান যার পরিচিতি নং-৬৮৭৫। ঐ সময়ে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এলজিএসপির, গুচ্ছ গ্রামের ও আদিবাসীদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। যারই অংশ বিশেষ এ কর্মকর্তার দুর্নীতির সংবাদ উপজেলার কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মুনসী মোঃ নাসিরুল ইসলাম দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে তার পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ করেন। এরই জের ধরে এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাহারও কোন অভিযোগ ছাড়াই এবং মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির সাথে সম্পৃক্ত না থেকেও স্বপ্রনোদিত হয়ে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উনিঅ/শ্রী/শিক্ষা-৫-১/১১.৮৬৪ স্বারকে ১/১২/১১ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পত্রের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১জি/১৭১-বিশেষ/০৮/১৪৫৭/৮ স্বারকে ১৯/০২/২০১২ তারিখে এ শিক্ষকের এমপিও বাতিল করেন এবং বিগত ১০ বছরে চাকুরী জীবনে বেতন ভাতাদি বাবদ উত্তোলনকৃত ৫,৪০,0০০/- টাকা রাষ্ট্রিয় কোষাগারে ফেরতের জন্য একটি পত্র ইসু করেন। উপায়ান্তর না পেয়ে উক্ত শিক্ষক পৈত্রিক প্রাপ্ত ১৩ (তের) শতক জমি বিক্রয় করে সেই অর্থ দিয়ে উক্ত ইস্যুকৃত পত্রের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দ্বায়ের করেন যার নং-২৫৪৫/২০১২। পিটিশনটি শুনানীর পর হাইকোর্ট ডিভিশন উক্ত পত্রের আদেশের কার্যকারিতা ৪ মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং উক্ত ইউএনও সহ সকল বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল নিশি জারি করেন। ৪ মাস শেষ হওয়ায় এবং বিবাদীগন কোন প্রকার জবাব না দেওয়ায় রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমপিও বাতিলের পত্রের কার্যকারীতা স্থায়ী ভাবে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব বাদী হয়ে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনে একটি লিভ টু আপিল দায়ের করেন যার নং- ১২৯৬/১৩, লিভ টু আপিলটি শুনানির পর আপিলেট ডিভিশন ১৩/১১/২০১৩ তারিখে আপিলটি খারিজ করে দেন।
পরিশেষে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে শুনানীর পর ২৮-০১-২০২০তারিখে শিক্ষকের অনুকূলে Rule Absolute করে আদেশ দেন। এ রায়ের আলোকে মাদ্রাসা অধিদপ্তর শিক্ষককে ২০২৩ সালে স্বপদে বহাল করে ১১ বছরের বকেয়া বেতন ভাতাদি না দিয়ে শুধুমাত্র ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস হতে এমপিও চালু করেন। ২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারী উক্ত শিক্ষক অবসরে গিয়ে উক্ত ১১ বছরের বকেয়া বেতন ভাতাদির জন্য একাধিকবার আবেদন করেও এ বকেয় না পেয়ে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ পড়ুয়া দুই সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিবারের ৪ জন সদস্য অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। সেই সাথে বকেয়া বেতন ভাতাদি প্রাপ্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রফিকুল ইসলাম লাভলু। উপদেষ্টা : প্রবাসী সুমন চন্দ্র। নির্বাহী সম্পাদক মোঃ তাজরুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক মোঃ জাহিদ হাসান মানছুর। ঢাকা অফিস : আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
যোগাযোগের ঠিকানা:-পীরগাছা, রংপুর। বার্তা কার্যালয়ঃ পাইকগাছা, খুলনা। মোবাইল: ০১৭১৭-৪৬৫০১০ ( সম্পাদক), ০১৭২৮-১০৩৫০৭ (নির্বাহী সম্পাদক
All rights reserved © 2025