
শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার শ্রীপুরে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলের পায়তারাসহ একাধিক সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের বরালিদহা গ্রামের মোজাম্মেল মোল্যা, তুজাম মোল্যা, ওহাব মোল্যা, কেছমত মোল্যাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে একই গ্রামের মো. জুয়েল মীর বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭৬ নং নাকোল মৌজার ১৩৮ নং দাগের মালিক মো.মোজাম্মেল মোল্লা এবং পাকা রাস্তার অপর পাশে ১৪৮ নং দাগের জমির মালিক
মোঃ জুয়েল মীর। কিন্তু বিবাদী মোজাম্মেল জোরপূর্বক ১৪৮ নং দাগের জমি দখল করতে পায়তারা চালাচ্ছে। গত ৬ আগষ্ট সন্ধ্যায় কয়েকটি হিন্দু পরিবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় তারা। নাকোল বাজারের বিধান সাহার জমি থেকে গাছ কাটাসহ সাতদোহা মাঠে পাড়ের সরকারি রাস্তা থেকে মাটি বিক্রি করে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী গোয়ালবাড়ি গ্রাম থেকে গরু লুটপাট করে খেয়েছে। নাকোল বাজারে হিন্দুদের ঘর দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এলাকার সবাই তাদের ভূমিদস্যু হিসেবে চিনেন। এরই একপর্যায়ে গত ২৫ জুন সকালে বিবাদীরা আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার পায়তারা করছে এমন সংবাদ শোনার পর ঘটনাস্থলে গেলে বিবাদীরা আমাকে খুন জখম করবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জমি জোরপূর্বক দখল করে নিবে বলে জানায়।
এ ব্যাপারে মো. জুয়েল মীর বলেন, আমি থানায় অভিযোগ দেওয়ায় তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বরালিদহা গ্রামের বিনয় কুমার কর্মকার বলেন, আমি চরগোয়ালপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আমার কোন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তবুও গত ৬ আগষ্ট মোজাম্মেল মোল্যার নেতৃত্ব এ সকল মানুষগুলো আমার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা কয়েক ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা ও নিয়ে যায়। শুধু আমি না আমার মত অনেক হিন্দু পরিবার সেদিন তাদের হামলার শিকার হয়েছিল। আমরা সে ঘটনার বিচার এখনো পায়নি৷
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসাদ মোল্যা বলেন, সেদিন এ সংবাদ শোনার পর আমরা হিন্দু পরিবারগুলো রক্ষার্থে এগিয়ে আসি। ততক্ষণে ভাঙচুর লুটপাট শেষ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বিধান সাহা বলেন, আমার জমির গাছ তারা রাতের আধারে কেটে নিয়েছিলো। শুধু আমি না এলাকার অনেক হিন্দুই তাদের অত্যাচারের শিকার।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোজাম্মেল মোল্যার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওলি মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
