
হেলাল উদ্দিন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
বিগত ১৭ বছর দেশে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থেকে দেশীয় সম্পদ অবহেলা করে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান আহমুদ টুকু। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বিগত সরকার দেশের নিজস্ব খনিজ সম্পদকে কাজে না লাগিয়ে আমদানিনির্ভর সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল। অথচ দেশের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনেক আগেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল।”
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খনি ও বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান ও উৎপাদন গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একঝাঁক নীতিনির্ধারক: ডা,এ জেড এম জাহিদ হোসেন,
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। আলহাজ আখতারুজ্জামান মিয়া নবনিযুক্ত হুইপ ও সংসদ সদস্য (দিনাজপুর-৪)। এ জেড এম রেজওয়ানুল হক সংসদ সদস্য (দিনাজপুর-৫)। সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম সংসদ সদস্য (দিনাজপুর-৩)।
এছাড়াও বৈঠকে জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে মন্ত্রীরা খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, কারিগরি জটিলতা এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বড়পুকুরিয়া কনফারেন্স রুমে কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ শেষে মন্ত্রী মহোদয়গণ সরেজমিনে বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র
এবংকয়লা খনি এলাকায় ঘুরে দেখেন। তারা খনির উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মধ্যপাড়া পাথর খনি পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে পাথরের উৎপাদন বৃদ্ধি ও খনির বর্তমান সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। দেশীয় পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে নির্মাণ খাতের ব্যয় কমিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
