
একরামুল হক একরাম,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ অবশেষে বহুল আলোচিত ও নানা অভিযোগে সমালোচিত লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রশাসনে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঘিরে থাকা অধ্যক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বে আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের সুরাহা না করেই পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল ,প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়। এতে লালমনিরহাট টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হককে তার মূল দায়িত্বে বহাল রেখে জেলার হাতীবান্ধা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৈয়দ মাছুম রাব্বানীকে বিজিটিটিসি, ঢাকা থেকে এনে লালমনিরহাট টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- বিদায়ী অধ্যক্ষের সময়ে টিটিসিতে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়ম ছিল “ওপেন সিক্রেট”। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে একাধিকবার উচ্চপর্যায়ে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি দীর্ঘদিন। ভুক্তভোগী আহসান বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি। অবশেষে বদলির মাধ্যমে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। আরেকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,যদি আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে প্রতিষ্ঠানের এত ক্ষতি হতো না। ”সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন- যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তাকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় না এনে শুধু সংযুক্ত করা কি যথেষ্ট? এতে কি প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে, নাকি শুধু সাময়িকভাবে চাপ কমানো হলো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র বদলি নয়- অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে সুশাসন নিশ্চিত করার একমাত্র পথ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে লালমনিরহাট টিটিসিতে সত্যিই শৃঙ্খলা ফিরবে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
