
মো:জুয়েল রানা ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ; দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় প্রকৌশলীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলেছেন বিভিন্ন প্রকৌশলী সংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি দক্ষ প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। এ প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট প্রকৌশলী -কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে। প্রকৌশলী নেতাদের মতে, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বড় অংশই অবকাঠামো, জ্বালানি, পানি সম্পদ, সড়ক যোগাযোগ, নগর পরিকল্পনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এসব খাতের পরিকল্পনা, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে প্রকৌশল জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রকৌশলীদের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তারা আরও বলেন, বর্তমানে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেক সিদ্ধান্ত আমলাতান্ত্রিক ব্যাখ্যা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, ব্যয়-সাশ্রয়, গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো সবসময় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। এর ফলে অনেক প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ এবং জনভোগান্তির মতো সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।
প্রকৌশলী সংগঠনের নেতাদের ভাষ্য, একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে এবং প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে। এ কারণেই তারা -কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, শাহরিন ইসলাম তুহিন দীর্ঘদিন ধরে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা এবং পেশাজীবীদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি মন্ত্রিসভায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এদিকে ডোমার-ডিমলা তথা -র সাধারণ মানুষও ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনায় তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগানো প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলেও তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রকৌশলীরা মনে করছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হবে আরও টেকসই, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব।বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, শিগগিরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হতে পারে। সেখানে নতুন কয়েকজন পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আলোচনা চলছে। এমন বাস্তবতায় প্রকৌশলী সমাজের প্রত্যাশা, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে মন্ত্রিসভায় একজন যোগ্য প্রকৌশলীর অন্তর্ভুক্তি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে। আর সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম এখন শাহরিন ইসলাম তুহিন..।
