ঢাকাThursday , 14 May 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. ফটো গ্যালারি
  11. বিনোদন
  12. ভিডিও গ্যালারি
  13. রাজধানী
  14. রাজনীতি
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৮ ডলার থেকে আন্তর্জাতিক সফলতা কুড়িগ্রামের তরুণদের অনুপ্রেরণা মো: মিগনিউর রহমান কনক

admin
May 14, 2026 4:01 pm
Link Copied!

Spread the love

মোঃ রফিকুল ইসলাম লাবলু, ‌নিজেস্ব প্রতিবেদক :- স্বপ্ন, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস—এই তিন শক্তিকে পুঁজি করে কুড়িগ্রামের এক সাধারণ তরুণ আজ হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক মানের ফ্রিল্যান্সার, সফল উদ্যোক্তা এবং তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তিনি মো. মিগনিউর রহমান কনক। ১৮ ডলারের ছোট একটি অনলাইন প্রজেক্ট দিয়ে শুরু হওয়া তার পথচলা আজ পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের এক অনন্য উচ্চতায়।

১৯৮৬ সালে কুড়িগ্রামে জন্ম নেওয়া কনকের ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং ওয়েব প্রযুক্তি নিয়ে জানার আগ্রহ থেকেই তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন ওয়েব ডেভেলপার ও সার্ভার স্পেশালিস্ট হিসেবে।

২০০৯ সালে তিনি ফ্রিল্যান্সিং জগতে যাত্রা শুরু করেন। প্রথম কাজ থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ১৮ ডলার। অনেকের কাছে যা সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু কনকের কাছে সেটিই ছিল বড় স্বপ্ন দেখার শুরু। তিনি বুঝতে পারেন, দক্ষতা থাকলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সমস্যা, ক্লায়েন্টের চাহিদা—সবকিছু মোকাবিলা করেই তাকে এগোতে হয়েছে। তবে প্রতিটি কাজকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রথম ১৮ ডলারের কাজের পর তিনি ৯০ ডলারের একটি প্রজেক্ট পান। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কাজের পরিধি ও অভিজ্ঞতা। ২০১৩ সালে তার জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। সে সময় তিনি মাসিক ৭৫০ ডলারের একটি প্রজেক্ট পান, যা তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। এরপর ২০১৬ সালে তিনি একজন নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে মাসিক ১৫০০ ডলারের কাজ শুরু করেন। সেই সময় থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তার দক্ষতার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি মাসে ৩০০০ ডলারের বেশি আয় করছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি সিনিয়র ওয়েব ডেভেলপার ও সার্ভার অ্যানালিস্ট হিসেবে রিমোট জবে কাজ করছেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সার্ভার ম্যানেজমেন্ট, ওয়েবসাইট সিকিউরিটি, হোস্টিং ও সার্ভার অপটিমাইজেশনের মতো জটিল প্রযুক্তিগত কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন তিনি। তবে কনকের সাফল্য কেবল অনলাইন জগতেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত অর্থ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাস্তব ব্যবসাতেও সফলতা অর্জন করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি একটি কার্গো ট্রাক কিনে পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন। পরে ২০২৪ সালে ফার্মেসি হোলসেল ব্যবসাতেও যুক্ত হন। প্রযুক্তি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা—তিনটি ভিন্ন খাতে তার এই যাত্রা তাকে একজন বহুমুখী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে আজ তিনি বাড়ি, গাড়ি ও জমির মালিক। কুড়িগ্রামের মতো জেলা শহর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা তার এই সাফল্য অনেক তরুণের কাছে এখন অনুপ্রেরণার গল্প।শুধু নিজের সফলতাতেই থেমে থাকেননি কনক। তিনি কুড়িগ্রামে একটি ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন, যেখানে স্থানীয় তরুণ ফ্রিল্যান্সার, ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপার ও ডিজিটাল মার্কেটারদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য—কুড়িগ্রামে একটি শক্তিশালী আইটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যাতে নতুনরা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ পায়। মো:মিগনিউর রহমান কনক বলেন,আমি যখন শুরু করি, তখন আমার প্রথম আয় ছিল মাত্র ১৮ ডলার। কিন্তু আমি কখনো ছোট কাজকে ছোট করে দেখিনি। প্রতিটি কাজ আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে। আমি চাই কুড়িগ্রামের তরুণরা সঠিকভাবে স্কিল শিখে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করুক।তার জীবনের গল্প প্রমাণ করে—সফলতা কোনো একদিনে আসে না। ধৈর্য, পরিশ্রম, শেখার আগ্রহ এবং নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে জেলা শহর থেকেও বিশ্ববাজারে সফল হওয়া সম্ভব। ১৮ ডলারের ছোট একটি কাজ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, ব্যবসা ও কমিউনিটি গঠন—সব মিলিয়ে মো. মিগনিউর রহমান কনকের জীবনগল্প আজ বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।