
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ এক বছর ধরে বিছানাবন্দি ছিলেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার আলাদীপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা ছামিনা বেগম (৬৫)। একসময়ের কর্মচঞ্চল এই বৃদ্ধার জীবন যেন থমকে গিয়েছিল ঘরের এক কোণে। অন্যের সাহায্য ছাড়া নড়াচড়াও করতে পারতেন না তিনি। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক শক্তিতে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল তার জীবন। ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন কমিউনিটি ‘হামার পীরগাছা’র উদ্যোগে ফান্ড সংগ্রহ করে তাকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে এই উপহার তুলে দেন গ্রুপের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলাদীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছামিনা বেগমের স্বামী বহু আগেই মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে টানাপোড়েনের সংসার চালান। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মায়ের চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার কেনা ছিল এই পরিবারের জন্য সাধ্যের অতীত।
বৃদ্ধার এই অসহায়ত্বের খবর পৌঁছে যায় ‘হামার পীরগাছা’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন মো. বেলাল হোসেনের কাছে। তিনি একটি হুইলচেয়ার কেনার জন্য গ্রুপে ফান্ড সংগ্রহের আহ্বান জানালে ফেসবুকের সাধারণ সদস্যরা অভূতপূর্ব সাড়া দেন। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ হয়ে যায় এবং পূরণ হয় একজন অসহায় মায়ের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন।
মঙ্গলবার বিকেলে আলাদীপাড়া গ্রামে গিয়ে ছামিনা বেগমের হাতে হুইলচেয়ারটি তুলে দেওয়া হলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পর স্বাধীনভাবে চলাফেরার নতুন সঙ্গী পেয়ে তার মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি, আর পরিবারের সদস্যদের চোখে দেখা যায় কৃতজ্ঞতার অশ্রু।
হুইলচেয়ার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন নাছুমামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মো. তোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. সোলায়মান খন্দকার, ‘হামার পীরগাছা যুব ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, সদস্য মিরাজ মিয়া, সোহাগ সরকার, মাহামুদুল হাসান সোহেল, শান্ত বাবু, মাসুদ খান, হৃদয় খান, মাহামুদুল হাসান, বায়জিদ মিয়া, সুলতানা দিনা, ডেন্টিস্ট মানিক মিয়া সহ আরো অনেকে।
‘হামার পীরগাছা’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন মো. বেলাল হোসেন বলেন, মানবসেবার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে আমাদের এই গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ৭৯ হাজার সদস্যের এই প্ল্যাটফর্মটি শুধু একটি অনলাইন গ্রুপ নয়, বরং মানবিক উদ্যোগের একটি বড় পরিবারে পরিণত হয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস আমাদের ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
