
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রফিকুল ইসলাম লাভলু:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভঁড় তেঁতুলিয়া গ্রামের সন্তান বাউল শাহিন আজ লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে একটি পরিচিত নাম। অদম্য সাধনা, গুরুজনদের দিকনির্দেশনা এবং সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন প্রতিশ্রুতিশীল বাউল শিল্পী হিসেবে।
বাউল শাহিনের বাবা মোঃ আব্দুস সামাদ বাবলু। পারিবারিক জীবনে তিনি মা-বাবা, স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে সুখী সংসার গড়ে তুলেছেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর আকর্ষণ। অজান্তেই গান গাইতে গাইতে একসময় উপলব্ধি করেন, গানই তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় আত্রাই উপজেলার রঙধনু একাডেমিতে। সেখানেই তিনি সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার সংগীত জীবনের অন্যতম পথপ্রদর্শক ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু আনিসুর রহমান আনিস, যিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন স্বনামধন্য গীতিকার ও সুরকার। বাউল শাহিন বলেন, “গুরুজির স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা না পেলে হয়তো আজকের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।”
স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত আয়োজনে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়েই তার শিল্পীজীবনের সূচনা। দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা এবং বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ তাকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। তবে সংগীত জীবনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। সংসার, আর্থিক বাস্তবতা এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে বহুবার সংগীত ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা এলেও গুরু ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুপ্রেরণায় তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।
নিজ এলাকার মঞ্চ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গান পরিবেশন করে তিনি অর্জন করেছেন ব্যাপক সুনাম ও শ্রোতাপ্রিয়তা। তার এই নিরলস সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে একসময় সুযোগ আসে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘রঙের বাজার’-এ অংশগ্রহণের। খ্যাতিমান সংগীত সম্পাদক হাসান মতিউর রহমানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় প্রচারিত এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে তিনি নতুনভাবে আলোচনায় আসেন।
বাউল শাহিন তার সংগীত জীবনে বিশেষ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ী খাদিমুল ইসলাম ক্যাপ্টেন ও আসাদ হোসাইন ভাইয়ের প্রতি। তাদের সহযোগিতা, অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ তার শিল্পীজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে নতুন নতুন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে বাংলা লোকসংগীত ও বাউল গানের ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশে আরও ছড়িয়ে দিতে চান এই শিল্পী।
বাউল শাহিন বলেন, “মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সকলের দোয়া, সমর্থন ও শুভকামনা পেলে আমি সংগীতের মাধ্যমে বাংলার সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে চাই।”
গ্রামবাংলার মাটির ঘ্রাণ আর বাউল দর্শনের সুর বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলা বাউল শাহিন এখন স্বপ্ন দেখছেন আরও বড় মঞ্চে বাংলা লোকসংগীতের প্রতিনিধিত্ব করার। তার এই পথচলা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
