
নাসিরুল ইসলাম শ্রীপুর (মাগুরা)
স্মৃতির আঙিনায় ফিরে এলো কৈশোরের সেই সোনালী দিনগুলো। চুলে পাক ধরেছে, কপালে চিন্তার ভাঁজ, অনেকের চশমার পাওয়ারও বেড়েছে—তবুও দেখা হতেই জড়িয়ে ধরা, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলা আর শৈশবের ডাকনামে ডেকে ওঠার আকুলতা যেন নিমেষেই মুছে দিল জীবনের চার দশকের ব্যস্ততা। মাগুরার ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের পুনর্মিলনী উৎসব কলেজ মিলনায়তনে অত্যন্ত আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর সহপাঠীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে হারিয়ে যান স্মৃতির অতল গহ্বরে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বহু বছর পর দেখা হওয়া বন্ধুদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে অপরকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ ৪০ বছর পর পুরোনো বন্ধুদের ফিরে পেয়ে সবার মাঝেই ছিল এক অন্যরকম উদ্দীপনা। মিলনমেলার মূল আনুষ্ঠানিকতায় ছিল ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ, বর্তমান জীবনের গল্প এবং হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের স্মরণ।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সবাই মেতে ওঠেন আড্ডায়। সেই ক্লাসরুম, কলেজের বারান্দা, আর আড্ডার সেই চেনা মাঠ যেন মুহূর্তেই প্রাণ ফিরে পায়। বন্ধুরা মিলে পুরোনো দিনের নানা খুনসুটি, শিক্ষকদের শাসন আর প্রথম কলেজ জীবনের নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা নতুন করে ভাগ করে নেন।
পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ১৯৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, “জীবনের তাগিদে আমরা কে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই ক্যাম্পাস আমাদের হৃদয়ে সবসময় জড়িয়ে ছিল। আজ ৪০ বছর পর এখানে এসে মনে হচ্ছে আমরা আবার সেই তরুণ বয়সে ফিরে গেছি।” তারা কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষা পরিবেশের প্রশংসা করেন এবং এই ধারা বজায় রাখতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্মৃতিচারণ শেষে শুরু হয় আনন্দ উৎসব। দুপুরের প্রীতিভোজ শেষে র্যালি অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দিনশেষে এক বুক স্মৃতি আর আগামীতে আবারও মিলিত হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় এই ঐতিহাসিক মিলনমেলা। এই পুনর্মিলনী কেবল পুরোনো বন্ধুদের আড্ডাই ছিল না, বরং এটি ছিল চার দশকের এক পরম ভালোবাসার সেতুবন্ধন।
