ঢাকাWednesday , 29 April 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. ফটো গ্যালারি
  11. বিনোদন
  12. ভিডিও গ্যালারি
  13. রাজধানী
  14. রাজনীতি
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অর্ধলক্ষ মানুষের দুর্ভোগের অবসান উলিপুরে ২৫ বছর জমানো সঞ্চয়ে কাঠের সেতু নির্মাণ, প্রশংসায় ভাসছেন আব্দুল করিম

admin
April 29, 2026 8:57 am
Link Copied!

Spread the love

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :- কুড়িগ্রামের উলিপুরে বুড়ি তিস্তা নদীর উপর ২৫ বছর জমানো সঞ্চয়ের টাকায় ১২০ ফিট কাঠের সেতু নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন আব্দুল করিম (৪৫) নামের এক ব্যাক্তি। এতে করে সেতুর আশেপাশের ওই এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর যাতায়াতের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ১৫ বছর ধরে কখনো ভ্যান চালিয়ে, দারোয়ানের চাকরি ও কুলির কাজ করে যা আয় হতো তার কিছু অংশ জমিয়ে এই কাজ করেন তিনি। উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জোনাইডাঙ্গা এলাকায় কাঠের সেতুটি ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। সেতুটির নাম দেওয়া হয়েছে আব্দুল করিম সেতু।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল করতে হতো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জোনাইডাঙা, মন্ডলপাড়া, সরদারপাড়া, কাঠাখালি, তবকপুর, ভদ্রপাড়া, রেলস্টেশন, বলদিপাড়া, মুন্সিপাড়া ও খাওনার দরগাহ সহ ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীরা চলাচল করতেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তবকপুর আবু বকর ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, তবকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর মহিলা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, উলিপুর আলিয়া মাদ্রাসা সহ কয়েকটি হাফেজি মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী রেল সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হত। সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি ছিল বড় দুর্ভোগের কারণ। দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলেও সরকারি ভাবে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। প্রায় দিনের দুর্ঘটনা আব্দুল করিমের হৃদয়ে ব্যকুল হয়ে উঠত। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন পরিশ্রম করে অর্থ আয় করে ব্রীজ করে দিবেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট দেখে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন আব্দুল করিম। দীর্ঘ ২৫ বছরের জমানো সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেন। তিনি জোনাইডাঙ্গা এলাকার ফয়জার আলীর ছেলে। আব্দুল করিম সঞ্চয়ের জমানো টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে ১২০ ফিট কাঠের সেতু বানিয়েছেন। ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিম তার নিজের মাকে দিয়ে সেতুটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। সেতুটির নামকরণ করা হয় আব্দুল করিম সেতু। তার এই কাজে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলাজুড়ে।এলাকাবাসী আমিনুল ইসলাম (৫৪), নবী মিয়া (৪২), শরিফা বেগম (৩৪) ও এসমোতারা (৪০) সহ আরও অনেকে জানান, এই পথে চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ঝুঁকি নিয়ে রেলসেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হতো। আব্দুল করিম নতুন কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় বর্তমানে এলাকাবাসীর যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। অনেক মানুষ উপকৃত হচ্ছে। একজন সামান্য দিনমজুর হয়ে তাঁর এই কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।সরদারপাড়া এলাকার শিক্ষার্থী রোকেয়া আক্তার বলেন, উলিপুর কলেজিয়েট স্কুল থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। রেল সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক ভয় পেতাম। আব্দুল করিম ভাই তার খরচে এত সুন্দর একটা ব্রীজ করে দিবেন আমরা ভাবতেও পারিনি। উনি আমাদের জন্য অনেক বড় কাজ করেছেন। গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগরাকুড়া কৃষ্ণমঙ্গল এলাকা থেকে আসা পথচারী আলফি আক্তার (৩০) বলেন, সরদারপাড়া এলাকায় আমার আত্নিয়ের বাসা। যোগাযোগ ব্যাবস্থা না থাকায় তাদের বাসায় আসিনি। নতুন ব্রীজ তৈরি হওয়ার কথা শুনে আজ আত্নীয়ের বাসায় এসেছি। ব্রীজের উপর দিয়ে যেতে অনেক ভালই লাগল। এ বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, প্রায় দিন এসে দেখতাম মানুষ কষ্ট করে রেলের সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে, অনেক সময় পড়েও যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা এলেও কেউ উদ্যোগ নেননি। মানুষের কষ্ট দেখে আমি ২৫ বছর ধরে কখন ভ্যান চালিয়ে, দারোয়ানের চাকরি করে এবং কুলির কাজ করে যা আয় হতো, তার কিছু অংশ জমিয়ে রাখতাম। সেই জমানো দেড় লাখ টাকা দিয়ে প্রথম কাজ শুরু করি। টাকা কম হওয়ায় নিজের শখের বাইক, ছাগলসহ অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে এবং ঋণ করে প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে এই সেতু বানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছি অস্থায়ী। আমি সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি স্থায়ীভাবে একটি সেতু নির্মাণ করে অবহেলিত মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করে দিবেন।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদি হাসান বলেন, আব্দুল করিম তার নিজের জমানো টাকা ও মটর সাইকেল বিক্রি করে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে মানুষের চলাফেরার একটা ব্যবস্থা দিয়েছে নিঃসন্দেহে এটি প্রসংশনীয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।