
এম.আর. সোহেল স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের লোকজনদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ মিয়া (৩০)। ঐগ্রামের আবদুল ওহাবের পুত্র বলে জানা যায়। গুরুতর আহত ৩/৪ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের লোকজনের মধ্যে স্থানীয় একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ৩১ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে প্রায়ই দুই গ্রামের বাসিন্দারা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন। পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে সকালেও উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের টেঁটার আঘাতে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে এলাকা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার পরিদর্শক লিমন বোস দৈনিক আমার সংবাদ ভৈরব প্রতিনিধি এম.আর. সোহেল কে মুঠোফোনে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একটি বাজারের স্থায়ী নামকরণ নিয়ে ৩১ বছর যাবৎ এই দ্বন্দ্ব সংঘাত চলছে। এর আগে গত ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ও ১২ আগস্ট সংঘর্ষ ও টেঁটা যুদ্ধ সহ বাড়ী-ঘর ভাংচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে ফের একই ঘটনায় দুই বছর পর আবারও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ ঘন্টাব্যাপী বন্ধ করে সংঘর্ষ ও টেঁটা যুদ্ধ করে তারা। এতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্ধু প্রভাতী ট্রেনে যাত্রীদের মাঝে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। স্থানীয় ও সচেতন মহলের দাবি অতিদ্রুত বাজারের নামকরণ নিয়ে এই সমস্যাটি নিরসন না করা হলে আরো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।
