
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের সড়ক ও মহাসড়কে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অবৈধ থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল। সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে মৃত্যু। গেল ছয় মাসে জেলার বিভিন্ন সড়কে ১৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২২ জন মানুষ, আহত হয়েছেন আরও ১৪২ জন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ যানবাহনগুলো পাল্লা দিয়ে চলছে ভারী যানবাহনের সঙ্গে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষে ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
বিআরটিএ ময়মনসিংহ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩১টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৮ জন, মার্চে ১৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৩ জনের। এপ্রিল মাসে ২৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯, মে মাসে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২২ জন এবং সর্বশেষ জুন মাসে ৩০টি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জন মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, এসব যানবাহনের চালকেরা অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন। তারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে বড় যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলেই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এসব ঘটনার পেছনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেও দায়ী করছেন তারা।
একজন সিএনজি চালক মোঃ ইসমাইল জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর কেউ ট্রাফিক আইন মানে না। আমরা নিজেরাও মানিনা, আমাদের কাগজপত্র নেই। কিন্তু সড়কে সবারই এখন যেন নিজস্ব আইন।
একইভাবে মাহেন্দ্র চালক মোঃ শরিফুল বলেন, অনেক অল্প বয়সী ছেলে এখন গাড়ি চালায়। তারা বড় গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে, ফলে দুর্ঘটনায় পড়ে। আগে সড়কে পুলিশ থাকত, এখন আর দেখা যায় না।
তবে পুলিশের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে। শুধু পুলিশ নয়, সবারই সচেতন হওয়া দরকার।
জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মোঃ আবু নাঈম জানান, অবৈধ যান চলাচল রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
ময়মনসিংহবাসীর দাবি, শুধু কথায় নয়,সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধ যান চলাচল বন্ধে প্রশাসনকে দৃশ্যমানভাবে কঠোর হতে হবে।
