
মোঃ রুবেল, সিনিয়র রিপোর্টার: সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে জমে থাকে পানি। কোথাও কোথাও কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো সড়ক। গর্তে জমে থাকা পানি দেখে বোঝার উপায় থাকে না, কোথায় সড়ক আর কোথায় ডোবা। এমন বেহাল দশায় পড়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হেয়াকো-ধুলিয়াছড়ি-বাগানবাজার হয়ে খাগড়াছড়ির রামগড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ধুলিয়াছড়ি থেকে বাগানবাজারের রাজারঘাট হয়ে হয়ে রামগড়মুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনগুলোকে এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে দেখা গেছে। আবার কোনো কোনো স্থানে গর্ত এতটাই গভীর যে যানবাহন পার হওয়ার সময় হেলে পড়ছে। সিএনজি অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কাদা-পানির কারণে পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের অনেককে জুতা হাতে নিয়ে কাদাযুক্ত অংশ পার হতে দেখা গেছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন অবস্থা হলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন দুই উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় বাড়ছে পরিবহন ব্যয় ও মানুষের দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রথম ধাপে সাড়ে চার কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। বাকি অংশ সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হেয়াকো বনানী কলেজ, বনানী স্কুল, ধুলিয়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজারিয়া স্কুল, হেয়াকো রহমানিয়া মাদ্রাসা ও ধুলিয়াছড়ি নূরানি মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া রামগড় থেকে প্রতিদিন শত শত গাড়ি ও ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। শুধু স্থানীয় জনগণই নয়, মানজিল এগ্রোর মতো দর্শনীয় স্থানে যেতে ভ্রমণপিয়াসীরাও সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।
হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আফরিন তাজরিন বলেন, ‘প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে কলেজে যেতে হয়। অনেক সময় ইউনিফর্মের পাশাপাশি বই-খাতাও নষ্ট হয়ে যায়। সড়কটি সংস্কার করা হলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’
স্কুলশিক্ষক রাহেলা বেগম বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা এতটাই নাজুক যে হেঁটে চলাও কষ্টকর। বর্ষায় পুরো সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। এই সড়ক দিয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে প্রায়ই পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।’
সিএনজি অটোরিকশাচালক নুর হোসেন বলেন, ‘এই সড়কে গাড়ি চালানো মানে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। পথে পথে গর্ত থাকায় প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে যায়। যাত্রী তুলতে গেলেও অনেকে উঠতে চান না। নিয়মিত মেরামতের খরচ বাড়ায় আয়ের বড় একটি অংশ গ্যারেজেই চলে যাচ্ছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই সড়কটি এ অঞ্চলের প্রাণ। সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।’
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জুনাইদ আবছার চৌধুরী বলেন, ‘ বৃহত্তর চট্টগ্রাম গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৪-এর ডিপিপিতে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদিত হলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘ দুই উপজেলার সংযোগ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সবচেয়ে কাদাযুক্ত অংশগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
